PASSPORT FAQ

জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কন্সুলার সেবা সংক্রান্ত জরুরী বিজ্ঞপ্তি:
এতদ্বারা জাপানস্থ সকলকে জানানো যাচ্ছে যে, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিয়মিত কন্সুলার পাসটপোর্ট ও ভিসা সেবায় নিম্নোক্ত পরিবর্তন আনা হয়েছে:
১) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দূতাবাসের কন্সুলার সেবা পূর্বের সময়ের পরিবর্তে আগামী ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখ হতে সকাল ১০:৩০ হতে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত প্রদান করা হবে। এরমধ্যে দুপুর ০১:০০ ঘটিকা হতে ০১:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত প্রার্থনা ও মধ্যাহ্ন ভোজন বিরতি থাকবে।
২) আগামী ২৭ মার্চ হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কন্সুলার ও পাসটপোর্ট এর সমস্ত সেবা কেবল ডাকযোগে গ্রহণ এবং প্রদান করা হবে। যদি কেউ একেবারে নতুন পাসটপোর্ট করতে চান অথবা বর্তমান পাসটপোর্ট এর ছবি পরিবর্তন করতে চান সে ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নাম্বারে ফোন দিয়ে বা ইমেইলের মাধ্যমে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট করে ১নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত সময়ে আসতে হবেঃ
০৭০-৪৩৯৬-৯৭৬৯
০৮০-৪০৬৫-৬৬০১
ইমেইল: consular.bdembjp@mofa.gov.bd অথবা arif.mohammad@mofa.gov.bd
৩) জরুরী প্রয়োজনে দূতাবাসে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে প্রবেশ করতে হবে।



জাপানে জন্মগ্রহণকৃত বাচ্চার নতুন পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রশ্নসমুহ

প্রথমেই আপনার বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন সনদ বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা বাংলাদেশ হতে সংগ্রহ করুন বাংলাদেশ দূতাবাস হতে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে চাইলে নিচের লিংকে প্রবেশ করে জেনে নিন আপনাকে কি কি করতে হবেঃ
http://bdembjp.mofa.gov.bd/wp-content/uploads/Birth-Certificate-application-GUIDELINE.pdf

মনে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশ দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট করতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ কর্মদিবস সময় লেগে থাকে। যদি আপনি অনলাইনে আবেদন পূরণ করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগবে।

অতঃপর আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করে অনলাইনে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করুনঃ
http://www.passport.gov.bd/

অনলাইনে কিভাবে পাসপোর্ট এর ফরম পূরণ করতে হয় তার অসংখ্য ভিডিও ইউটিউবে দেয়া আছে তার মধ্য থেকে একটি ভিডিও আমরা আপনার সহজে বোঝার জন্য শেয়ার করছিঃ
https://www.youtube.com/watch?v=aTSy1oJPhzs
অনলাইনে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার ক্ষেত্রে যখন পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হবে, তখন স্কিপ পেমেন্ট (Skip Payment) বক্সটি ক্লিক করে সামনে এগিয়ে যান; কেননা পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এখানে দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আলাদা ভাবে আপনার কাছ থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের রশিদ সরাসরি বা ডাক মারফতে জমা নিব।

ফরমটি পূরণ করা হয়ে গেলে তার এক কপি প্রিন্ট করে নিন এবং সেখানে বাচ্চার পাসপোর্ট সাইজের (৩০*৪০ মিলিমিটার অথবা ৩৫*৪৫ মিলিমিটার) অথবা আপনার সুবিধাজনক যেকোন সাইজের দুই কপি রঙিন ছবি সংযুক্ত করুন। ছবি তোলার সময় চশমা, সাদা শার্ট, ফেন্সি টুপি, কপালে নজর টিপ, বা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস পরিহার করুন। একই ছবির একটি বড় ছবি টু এল (2L) সাইজ অথবা ১২*১৮ সেন্টিমিটার সাইজের ছবি সংযুক্ত করুন। এই ছবি থেকেই মূল পাসপোর্ট এর ছবি নেয়া হবে, তাই ছবিটি অবশ্যই যথাযথ এবং সর্বোচ্চ রেজোল্যুশন বা মেগাপিক্সেলের হতে হবে। ছবিটি পোর্ট্রেট (portrait) ধরনের হবে, চোখ খোলা থাকবে, দুটো কান যথাসম্ভব দৃশ্যমান হতে হবে, মাথার উপরে এবং মুখমন্ডলের উভয় পাশে খালি জায়গা থাকবে, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হতে হবে। পিতা-মাতার উভয়েরই ২৫*৩৫ মিলিমিটার সাইজের ছবি আবেদনপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় আঠা দিয়ে সংযুক্ত করুন। এই পাসপোর্ট ফর্মের কোথাও কোন সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না। অতঃপর নিন্মোক্ত ডকুমেন্টসমুহ সংযুক্ত করুনঃ
ক) বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা বাংলাদেশ হতে সংগৃহীত জন্ম নিবন্ধন সনদ
খ) জাপানি জন্ম সনদের ফটোকপি এবং জুমিন ইয়োর অরিজিনাল কপি। যদি আপনি বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে থাকেন, তাহলে জাপানি জন্ম সনদ সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
গ) বাচ্চা, বাবা এবং মায়ের জাপানি জাইরো কার্ডের উভয় পৃষ্ঠার ফটোকপি জমা দিন।
ঘ) মাতা ও পিতার পাসপোর্ট এর কপি সংযুক্ত করুন
ঙ) ১২০০০ (12000) ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। অতঃপর ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট-এর একটি ছবি তুলে আপনার কাছে সংরক্ষনে রাখুন। প্রি-স্কুল/কিন্ডারগার্টেন/চাইল্ড কেয়ার কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট আপনার স্টুডেন্ট এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না; এসকল ক্ষেত্রেও আপনাকে ১২০০০ ইয়েন দিতে হবে।
চ) আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস, পোস্ট কোডসহ পুরো ঠিকানা, বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্রের টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি একটি সাদা কাগজে প্রিন্ট আকারে অথবা পরিষ্কার অক্ষরে লিখে জমা দিন। এই কাগজের নিচে আপনার স্বাক্ষর প্রদান করুন।

ডাকযোগে আপনার আবেদন দূতাবাসে পাঠাতে চাইলে, আবেদন পত্রের সাথে একটি ফিরতি খাম লেটার প্যাক সংযুক্ত করতে হবে যা আপনি আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিস অথবা ফ্যামিলি মার্ট বা সেভেন এলেভেন থেকে ক্রয় করতে পারবেন। নমুনা খামের একটি ছবি নিচের লিংকে সংযুক্ত করা হলোঃ

এটি একটি লাল বর্ডার যুক্ত এলপি লেটার প্যাক যার মুল্য ৫২০ ইয়েন। উক্ত খামের উপর আপনার পোস্ট কোড সহ পূর্ণ ঠিকানা, নাম ও ফোন নাম্বার লিখে নিন। লেটার প্যাকটি পাঠানোর পূর্বে লেটার প্যাকের উপরের পৃষ্ঠার একটি ছবি তুলে আপনার কাছে সংরক্ষনে রাখুন এবং এই লেটার প্যাক এর উপরে একটি ট্রাকিং নাম্বার দেয়া আছে যা দিয়ে আপনি সহজেই জানতে পারবেন আপনার লেটার প্যাকটি দূতাবাসে পৌঁছেছে কিনা বা আপনার প্রেরিত লেটার প্যাকটি বর্তমানে কোথায় আছে তা ট্র্যাকিং করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ
https://www.post.japanpost.jp/index_en.html
ডাকযোগে প্রেরণের ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট সমূহের কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি হলে দূতাবাস দায়ী থাকবেনা মর্মে আপনার স্বাক্ষর সহ একটি সাদা কাগজে আবেদন সংযুক্ত করুন। মনে রাখবেন, একটি লেটার প্যাক এ সর্বোচ্চ ২ জনের পাসপোর্ট পাঠানো যায়; তাই আবেদনকারীর সংখ্যা দুই জনের বেশি হলে একাধিক (প্রয়োজনমতো) লেটার প্যাক সংযুক্ত করুন। আপনার প্রেরিত প্রতিটি খামের একটি ছবি তুলে আপনার সংরক্ষণে রাখুন।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আশেপাশেই ফ্যামিলি মার্ট, সেভেন এলেভেন, পোস্ট অফিস বা জেপি ব্যাংক রয়েছে যেখান থেকে সহজেই আপনি টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। প্রাপক- জাপান পোস্ট ব্যাংক (JP Bank) অ্যাকাউন্ট নাম্বার ১০০৮০-৭৩৭৯৬৭৫১ (10080- 73796751)।

পোস্ট অফিসে সরাসরি ফি প্রদান করলে দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো লিখুন আর ব্যাংকের এটিএম কার্ড-এর মাধ্যমে এটিএম মেশিনে ফি প্রদান করতে চাইলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো টাইপ করুন এবং সবশেষ বাটনে চাপ দেয়ার আগে জাপানিজ ভাষায় দূতাবাসের নামটি পরীক্ষা করে নিন। অসতর্ক হলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং অর্থের পরিমাণ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। উল্লেখ্য, দূতাবাস একাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করলে ৭ দিনের মধ্যে অবশ্যই দূতাবাসকে জানাতে হবে। মনে রাখবেন, ভুলক্রমে প্রেরণকৃত অর্থ ফেরত প্রদান সরকারি আইন অনুযায়ী অনেক সময় সাপেক্ষ এবং জটিল বিষয়। উল্লিখিত অর্থ একাউন্টে জমা দানের পর টাকা জমা দেয়ার ডিপোজিট স্লিপ এর অরিজিনাল কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন এবং একটি ফটোকপি আপনি নিজের কাছে রেখে দিন। একই সাথে, আপনার পাসবুক আপডেট বা হালনাগাদ করুন এবং দূতাবাসে স্বশরীরে আসার সময় পাস বইটিও সঙ্গে নিয়ে আসুন।

** সকল কাগজপত্র অবশ্যই A4 সাইজ কাগজে জমা দিন। কোন দলিল (যেমন, বিয়ের সনদ বা হলফনামা ইত্যাদি) যদি আকারের বড় হয় সেক্ষেত্রে Percentage কমিয়ে A4 সাইজ কাগজে ফটোকপি করে জমা দিন। সকল কাগজপত্র পরিষ্কার এবং স্পষ্ট হতে হবে।

উপরোক্ত আবেদন এবং ডকুমেন্ট সমূহ পাওয়ার পরে প্রাথমিকভাবে আমরা একটি এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব এবং একটি ডেলিভারি স্লিপ আপনার প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য আপনার ইমেইলে স্ক্যান করে পাঠিয়ে দিব। ডাকযোগেও পাঠানো সম্ভব যদি আপনি ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ইয়েনের ডাকটিকিটসহ আলাদা আরেকটি ফেরত খাম দেন। অতঃপর ডেলিভারি স্লিপটি প্রিন্ট আউট করে স্বাক্ষর করে, স্ক্যান করে ইমেইলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আপনার স্বাক্ষরিত কাগজটি পেলেই আমরা অবশিষ্ট কয়েকটি পর্যায়ের কাজ শেষ করে ঢাকায় পাসপোর্ট প্রিন্ট এর জন্য প্রেরণ করব। দূতাবাসে ইমেইল পাঠানোর ঠিকানাঃ consular.bdembjp@mofa.gov.bd

যেকোন ডকুমেন্ট আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইমেইলে যোগাযোগ করা সবচেয়ে উত্তম, কেননা এতে আপনার ডেলিভারি স্লিপ বা অন্যান্য ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে। আমরা অনেক সময়ই আবেদনকারীর কাছ থেকে জানতে পারি যে, তিনি তার ডেলিভারি স্লিপ-এর কাগজটি হারিয়ে ফেলেছেন বা খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সকল ক্ষেত্রে তার পাসপোর্ট এর আবেদন খুঁজে পেতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ হচ্ছে, আপনি যদি ইমেইল ব্যবহার করতে নাও পারেন আপনার যে বন্ধু বা নিকট আত্মীয় ব্যবহার করে তার ইমেইল এড্রেসটি আমাদের দিন; আর একান্তই অপারগ হলে আপনি ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ইয়েনের ডাকটিকিটসহ একটি ফেরত খাম আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। উক্ত খামে আমরা আপনার পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ডেলিভারি স্লিপ আপনার কাছে পাঠিয়ে দিব যা আপনি স্বাক্ষর করে আমাদের কাছে পুনরায় পাঠিয়ে দিলে আমরা আপনার পাসপোর্ট-এর এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন করে ঢাকায় প্রিন্টিং এর জন্য পাঠিয়ে দিব। ফেরত দেয়ার পূর্বে অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপের ছবি তুলে আপনার সংরক্ষনে রাখুন। দূতাবাসে ইমেইল পাঠানোর ঠিকানাঃ consular.bdembjp@mofa.gov.bd

আপনার মোবাইলে যদি ইন্টারনেট থাকে তাহলে আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে সহজেই দূতাবাসে পৌঁছানোর উপায় জানতে পারবেন link

আর আপনি যদি অফলাইনে থাকেন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না জানেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছাতে নাগাতাচো স্টেশন (Nagatacho Station) অথবা কোজিমাচি স্টেশন (Kojimachi Station) এর যেকোনো একটি স্টেশনে নেমে হেঁটে আসতে হবে। নাগাতাচো স্টেশনে নামলে 9A or 9B গেট দিয়ে বের হবেন আর কোজিমাচি স্টেশন দিয়ে বের হলে Exit Gate 1 ব্যবহার করলে আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট এবং কনস্যুলার সেবা সহজ করার লক্ষ্যে প্রতিমাসের প্রথম রবিবার বাংলাদেশ দূতাবাস সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসের প্রথম রবিবারে একসাথে অনেক মানুষের ভিড় হয়। সে ক্ষেত্রে সেবা প্রদান দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। তাই আরো একটি বিকল্প পন্থার কথা আমরা আপনাকে জানাতে চাইঃ
লক্ষ্য করে দেখুন, বাংলাদেশ দূতাবাসের বাৎসরিক ছুটির দিনগুলো আর আপনার/জাপানের ছুটির দিনগুলো সব ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথমেই জেনে নিন ২০২০ সালে দূতাবাস কোন কোন দিন বন্ধ থাকবেঃ

এই তালিকাটি থেকে জানা যাচ্ছে যে, অনেকগুলো দিন আছে যেদিন জাপানে পাবলিক হলিডে কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস খোলা। তাই আপনার দূতাবাসে আসার জন্য এই দিনগুলো খুবই সুবিধাজনক। যেমন, ২০২০ সালের-

জানুয়ারি ১৩ মার্চ ২০ মে ৪ জুলাই ২৩
জুলাই ২৪ আগষ্ট ১০ সেপ্টেম্বর ২২ নভেম্বর ৩

এর বাহিরেও জাপানে বিভিন্ন কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান/স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি গোল্ডেন উইক, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এবং ওবোন হলিডেস ইত্যাদি সময় বন্ধ থাকে, কিন্তু এ সময়গুলোতেও দূতাবাস প্রায়ক্ষেত্রে খোলা থাকে। তাই আপনার এ বছরের ছুটির সাথে দূতাবাসের বন্ধের তালিকা মিলিয়ে নোট করে নিন কোন দিনগুলো আপনার বন্ধ আর দূতাবাস খোলা। ঐদিন গুলোতেই আপনি দূতাবাসে আপনার পাসপোর্ট বা কন্সুলার সেবার জন্য চলে আসতে পারেন।

আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং জায়রো কার্ডের এক কপি ফটোকপিসহ দূতাবাস বরাবর আপনার জন্ম নিবন্ধনের কপি হারিয়ে গিয়েছে মর্মে একটি সাদা কাগজে আবেদন করুন। সেই সাথে ১০০০ ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন এবং সেই ফুরিকমির অরিজিনাল স্লিপ আপনার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দূতাবাসে সরাসরি জমা দিন বা ডাকযোগে ফিরতি খামসহ পাঠিয়ে দিন। আপনার আবেদন পেলে আমরা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর একটি বিকল্প কপি তৈরি করে আপনাকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিব আপনার ফিরতি খামে অবশ্যই ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ডাকটিকেট সংযুক্ত করুন এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখে দিন।

আপনি আপনার পাসপোর্ট-এর কপি, জায়রো কার্ডের কপি ও পূর্বের জন্ম নিবন্ধন সনদ-এর কপি সহ সাদা কাগজে আবেদন করুন। আপনি কি কি পরিবর্তন চান তা আপনার আবেদনে বিস্তারিত লিখুন এবং তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত করুন। একই সাথে বাংলাদেশ হতে একটি এফিডেভিট করে সেটি নোটারাইজড করে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে দূতাবাসে জমা দিন। সেই সাথে 3000 ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন এবং সেই ফুরিকমির অরিজিনাল স্লিপ আপনার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দূতাবাসে সরাসরি জমা দিন বা ডাকযোগে ফিরতি খামসহ পাঠিয়ে দিন। আপনার আবেদন পেলে আমরা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর একটি বিকল্প কপি তৈরি করে আপনাকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিব। আপনার ফিরতি খামে অবশ্যই ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ডাকটিকেট সংযুক্ত করুন এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখে দিন।

দুটো আবেদন আপনি ডাকযোগে একসাথে পাঠানোর সুযোগ থাকলেও আমাদের পরামর্শ হল আলাদাভাবে প্রেরন করা কেননা দুটো কাজ আমাদের আলাদা আলাদা করতে হয় এবং এতে ভুল-ত্রুটি হয় না। দুটো আবেদন একসাথে পাঠালে প্রথমে আমাদেরকে জন্ম নিবন্ধন করতে হয়। তারপরে পাসপোর্ট এর প্রসেস করতে হয়। এ ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটে ভুল ত্রুটি হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই আপনি প্রথমে জন্ম নিবন্ধন এর কাজ সম্পন্ন করুন তারপরে পাসপোর্টের আবেদন আলাদাভাবে পাঠান। একবার যদি পাসপোর্ট এর তথ্য ভুল হয়ে যায় সেটি পরবর্তীতে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে আপনাকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

অনলাইনে না পারলে হার্ড কপির উপর হাতে লিখেও ফর্ম পূরণ করা যায়; তবে সেক্ষেত্রে অনেক ভুল-ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে এবং তা সময় সাপেক্ষ বিষয় কেননা আপনার তথ্য সমূহকে আমাদের ম্যানুয়ালি টাইপ করে দিতে হয়। মনে রাখবেন পাসপোর্ট যেহেতু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং এর তথ্য সমূহ নির্ভূল হওয়া খুবই জরুরী তাই আপনি নিজে সময় নিয়ে অনলাইনে নিজের তথ্য নিজে পূরণ করুন আর আপনার পক্ষে অনলাইনে ফরম পূরণ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের সহযোগিতা নিন। একবার যদি পাসপোর্ট এর তথ্য ভুল হয়ে যায় সেটি পরবর্তীতে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে আপনাকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

বাচ্চার যদি প্রথম এমআরপি পাসপোর্ট করতে হয় এবং বাচ্চার বয়স যদি পাঁচ বছরের কম হয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চাকে সাথে আনার প্রয়োজন নেই। আর বাচ্চার বয়স যদি ৫ বছরের অধিক হয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। তাই বাচ্চার বয়স পূর্ণ পাঁচ বছর বা তার অধিক হলে তাকে অবশ্যই দূতাবাসে আসতে হবে।

তখন আপনার বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের কম ছিল, তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক ছিল না। এখন পাঁচ বছরের বেশি হওয়াতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে বিদেশস্থ কোন বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরিভিত্তিতে স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা চালু নেই। পাসপোর্ট এর আবেদন করার পরে নতুন পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে ২০ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। আপনার পাসপোর্ট-এর আবেদনটি কোন অবস্থায় আছে তা আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেই জানতে পারবেন। কিভাবে জানবেন সে বিষয়ে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে তারই একটি ভিডিও লিঙ্ক নিম্নরূপঃ
https://www.youtube.com/watch?v=hEVLlSKt5G4

যে তারিখ আপনার এনরোলমেন্ট স্লিপে উল্লেখ আছে, সেই তারিখটি মূলত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশস্থ মিশনগুলোতে সাধারণত এর চেয়ে কিছু বেশি সময় লাগে।

নতুন পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রশ্নসমুহ।
যদি আপনার ডিজিটাল বা এমআরপি পাসপোর্ট না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনাকে নতুন পাসপোর্ট-এর আবেদন করতে হবে।

প্রথমেই আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করে অনলাইনে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করুনঃ
http://www.passport.gov.bd/
অনলাইনে কিভাবে পাসপোর্ট এর ফরম পূরণ করতে হয় তার অসংখ্য ভিডিও ইউটিউবে দেয়া আছে তার মধ্য থেকে একটি ভিডিও আমরা আপনার সহজে বোঝার জন্য শেয়ার করছিঃ
https://www.youtube.com/watch?v=aTSy1oJPhzs
অনলাইনে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার ক্ষেত্রে যখন পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হবে, তখন স্কিপ পেমেন্ট (Skip Payment) বক্সটি ক্লিক করে সামনে এগিয়ে যান; কেননা পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এখানে দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আলাদা ভাবে আপনার কাছ থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের রশিদ সরাসরি বা ডাক মারফতে জমা নিব।

ফরমটি পূরণ করা হয়ে গেলে তার এক কপি প্রিন্ট করে নিন এবং সেখানে আপনার পাসপোর্ট সাইজের অথবা আপনার সুবিধাজনক যেকোন সাইজের ছবি সংযুক্ত করুন। এই পাসপোর্ট ফর্মের কোথাও কোন সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না। অতঃপর নিন্মোক্ত ডকুমেন্টসমুহ সংযুক্ত করুনঃ

ক) আপনার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট অথবা আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ডের কপি (যদি থাকে) মনে রাখবেন, আপনার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট অবশ্যই অনলাইন ভেরিফাইড হতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট অনলাইনে কিভাবে ভেরিফাই করতে হয়, তার অসংখ্য ভিডিও ইউটিউবে আছে। তার মধ্য থেকে আমরা একটি ভিডিও নিচের লিংকে শেয়ার করছি, যাতে করে কাজটি করা আপনার জন্য সহজ হয়ঃ
https://www.youtube.com/watch?v=DTqQ6OM5IeE&t=27s

ভেরিফিকেশন পেইজের একটি প্রিন্টেড কপি আপনার আবেদন এর সাথে যুক্ত করুন। আর আপনার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের তথ্যাবলী যদি অনলাইনে দেখা না যায়, তাহলে যেখান থেকে এই জন্ম নিবন্ধন সনদ করিয়েছিলেন সেই দপ্তরে যোগাযোগ করার মাধ্যমে অনলাইনে যেন তথ্য প্রদর্শিত হয় সেই ব্যবস্থা নিন।

আপনার জন্ম যদি জাপানে হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে জাপান দূতাবাস থেকে জন্ম সনদ নেয়া যাবে। আর জন্ম যদি জাপানে না হয় সে ক্ষেত্রে তা দেশ থেকে করানো উত্তম। বাংলাদেশ দূতাবাস হতে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে চাইলে নিচের লিংকে প্রবেশ করে জেনে নিন আপনাকে কি কি করতে হবেঃ
http://bdembjp.mofa.gov.bd/index.php/online-birth-registration/
মনে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশ দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট করতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ কর্মদিবস সময় লেগে থাকে। যদি আপনি অনলাইনে আবেদন পূরণ করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগবে।
খ) আপনার পূর্বের হাতের লেখা পাসপোর্ট এর প্রথম ছয় পৃষ্ঠার ফটোকপি ও মূল পাসপোর্টঃ মনে রাখবেন, আপনার হাতের লেখা পাসপোর্ট বা পুরোনো পাসপোর্ট-এর সাথে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট-এর প্রদত্ত তথ্য সমূহ অবশ্যই অভিন্ন হতে হবে। হাতের লেখা পাসপোর্টের কোন তথ্যের পরিবর্তন বা সংশোধন থাকলে, জন্ম নিবন্ধন সনদে সেই সংশোধন বা পরিবর্তন করতে হবে এবং বাংলাদেশ হতে একটি এফিডেভিট করে প্রথমে নোটারাইজড করে পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত করে সেই কপিটি আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। আপনার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড থাকে সেক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ) জাইরো কার্ডের কপি
ঘ) আপনার স্বামী বা স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে আপনার ম্যারেজ সার্টিফিকেট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে নিয়ে আসতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ম্যারেজ সার্টিফিকেট সত্যায়নের পদ্ধতি হলো, প্রথমে আপনাকে তা নোটারি করতে হবে; অতঃপর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করতে হবে; সবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করাতে হবে।
ঙ) আপনি যদি স্টুডেন্ট হন তাহলে বিদ্যালয়/ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়/ইনস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে সদ্য ইস্যুকৃত এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট এর মূলকপি এবং স্টুডেন্ট আইডি এর ফটোকপি (উভয় পার্শ্ব এক পৃষ্ঠায়); সেক্ষেত্রে, ৪০০০ (4000) ইয়েন ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। স্টুডেন্ট ব্যতীত অন্য সকলের ক্ষেত্রে ১২০০০ (12000) ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। অতঃপর ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট-এর একটি ছবি তুলে আপনার কাছে সংরক্ষনে রাখুন।
চ) আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস, পোস্ট কোডসহ পুরো ঠিকানা, বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্রের টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি একটি সাদা কাগজে প্রিন্ট আকারে অথবা পরিষ্কার অক্ষরে লিখে জমা দিন। এই কাগজের নিচে আপনার স্বাক্ষর প্রদান করুন।
** আপনার বয়স যদি পাঁচ বছর কিংবা তদূর্ধ্ব হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে দূতাবাসের সশরীরে এসে বায়োমেট্রিক এবং ছবি তুলতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আপনি চাইলে ৫২০ ইয়েন মুল্যের খাম দূতাবাসে জমা দিতে পারবেন যেটা দিয়ে আমরা আপনার পাসপোর্টটি প্রিন্ট হয়ে আসলে আপনার নিকট পাঠিয়ে দিব।
** যারা দূতাবাসে এসে তাদের নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন, তাদের পুরনো পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা রাখা হবে না। নতুন পাসপোর্ট যখন নিতে আসবেন, তখন পুরাতন পাসপোর্ট এবং ডেলিভারি স্লিপ সঙ্গে নিয়ে আসবেন। আমরা আপনার নতুন পাসপোর্টটি ইস্যু করব এবং পুরাতন পাসপোর্টটি বাতিল সিল প্রদান করে একসাথে আপনাকে ফেরত দিব।
সকল কাগজপত্র অবশ্যই A4 সাইজ কাগজে জমা দিন। কোন দলিল (যেমন, বিয়ের সনদ বা হলফনামা ইত্যাদি) যদি আকারের বড় হয় সেক্ষেত্রে percentage কমিয়ে A4 সাইজ কাগজে ফটোকপি করে জমা দিন। সকল কাগজপত্র পরিষ্কার এবং স্পষ্ট হতে হবে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, নতুন পাসপোর্টের আবেদনটি পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন হওয়ায় পাসপোর্ট পেতে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে। এক্ষেত্রে আপনার ডেলিভারি স্লিপ এর কপি নিয়ে আপনার কোন প্রতিনিধি ঢাকার আগারগাঁওস্থ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে না পারলে হার্ড কপির উপর হাতে লিখেও ফর্ম পূরণ করা যায়; তবে সেক্ষেত্রে অনেক ভুল-ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে এবং তা সময় সাপেক্ষ বিষয় কেননা আপনার তথ্য সমূহকে আমাদের ম্যানুয়ালি টাইপ করে দিতে হয়। মনে রাখবেন পাসপোর্ট যেহেতু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং এর তথ্য সমূহ নির্ভূল হওয়া খুবই জরুরী তাই আপনি নিজে সময় নিয়ে অনলাইনে নিজের তথ্য নিজে পূরণ করুন আর আপনার পক্ষে অনলাইনে ফরম পূরণ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের সহযোগিতা নিন। একবার যদি পাসপোর্ট এর তথ্য ভুল হয়ে যায় সেটি পরবর্তীতে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে আপনাকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আশেপাশেই ফ্যামিলি মার্ট সেভেন এলেভেন বা পোস্ট অফিস জেপি ব্যাংক রয়েছে যেখান থেকে সহজেই আপনি টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। প্রাপক- জাপান পোস্ট ব্যাংক (JP Bank) অ্যাকাউন্ট নাম্বার ১০০৮০-৭৩৭৯৬৭৫১ (10080- 73796751)।

পোস্ট অফিসে সরাসরি ফি প্রদান করলে দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো লিখুন আর ব্যাংকের এটিএম কার্ড-এর মাধ্যমে এটিএম মেশিনে ফি প্রদান করতে চাইলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো টাইপ করুন এবং সবশেষ বাটনে চাপ দেয়ার আগে জাপানিজ ভাষায় দূতাবাসের নামটি পরীক্ষা করে নিন। অসতর্ক হলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং অর্থের পরিমাণ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। উল্লেখ্য, দূতাবাস একাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করলে ৭ দিনের মধ্যে অবশ্যই দূতাবাসকে জানাতে হবে। মনে রাখবেন, ভুলক্রমে প্রেরণকৃত অর্থ ফেরত প্রদান সরকারি আইন অনুযায়ী অনেক সময় সাপেক্ষ এবং জটিল বিষয়। উল্লিখিত অর্থ একাউন্টে জমা দানের পর টাকা জমা দেয়ার ডিপোজিট স্লিপ এর অরিজিনাল কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন এবং একটি ফটোকপি আপনি নিজের কাছে রেখে দিন। একই সাথে, আপনার পাসবুক আপডেট বা হালনাগাদ করুন এবং দূতাবাসে স্বশরীরে আসার সময় পাস বইটিও সঙ্গে নিয়ে আসুন।

আপনি যদি স্টুডেন্ট হন (বিদ্যালয়/ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়/ইনিস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে সদ্য ইস্যুকৃত এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট এর মূলকপি এবং স্টুডেন্ট আইডি এর ফটোকপি জমাদান সাপেক্ষে) ৪০০০ (4000) ইয়েন ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। স্টুডেন্ট ব্যতীত সকলের ক্ষেত্রে ১২০০০ (12000) ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে এবং জাপানে সাময়িক সময়ের জন্য পিএইচডি/মাস্টার্স/উচ্চশিক্ষা/প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য আসলে পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ১২০০০ ইয়েন প্রদান করতে হবে। অফিশিয়াল পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে কোন ফি প্রদান এর প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে আপনার ভ্যালিড জিও কপি সংযুক্ত করুন।

যেকোন ডকুমেন্ট আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইমেইলে যোগাযোগ করা সবচেয়ে উত্তম, কেননা এতে আপনার ডেলিভারি স্লিপ বা অন্যান্য ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে। আমরা অনেক সময়ই আবেদনকারীর কাছ থেকে জানতে পারি যে, তিনি তার ডেলিভারি স্লিপ-এর কাগজটি হারিয়ে ফেলেছেন বা খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সকল ক্ষেত্রে তার পাসপোর্ট এর আবেদন খুঁজে পেতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ হচ্ছে, আপনি যদি ইমেইল ব্যবহার করতে নাও পারেন আপনার যে বন্ধু বা নিকট আত্মীয় ব্যবহার করে তার ইমেইল এড্রেসটি আমাদের দিন; আর একান্তই অপারগ হলে আপনি ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ইয়েনের ডাকটিকিটসহ একটি ফেরত খাম আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। উক্ত খামে আমরা আপনার পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ডেলিভারি স্লিপ আপনার কাছে পাঠিয়ে দিব যা আপনি স্বাক্ষর করে আমাদের কাছে পুনরায় পাঠিয়ে দিলে আমরা আপনার পাসপোর্ট-এর এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন করে ঢাকায় প্রিন্টিং এর জন্য পাঠিয়ে দিব। দূতাবাসে ইমেইল পাঠানোর ঠিকানাঃ consular.bdembjp@mofa.gov.bd

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট এবং কনস্যুলার সেবা সহজ করার লক্ষ্যে প্রতিমাসের প্রথম রবিবার বাংলাদেশ দূতাবাস সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসের প্রথম রবিবারে একসাথে অনেক মানুষের ভিড় হয়। সে ক্ষেত্রে সেবা প্রদান দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। তাই আরো একটি বিকল্প পন্থার কথা আমরা আপনাকে জানাতে চাইঃ
লক্ষ্য করে দেখুন, বাংলাদেশ দূতাবাসের বাৎসরিক ছুটির দিনগুলো আর আপনার/জাপানের ছুটির দিনগুলো সব ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথমেই জেনে নিন ২০২০ সালে দূতাবাস কোন কোন দিন বন্ধ থাকবেঃ

এই তালিকাটি থেকে জানা যাচ্ছে যে, অনেকগুলো দিন আছে যেদিন জাপানে পাবলিক হলিডে কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস খোলা। তাই আপনার দূতাবাসে আসার জন্য এই দিনগুলো খুবই সুবিধাজনক। যেমন, ২০২০ সালের-

জানুয়ারি ১৩ মার্চ ২০ মে ৪ জুলাই ২৩
জুলাই ২৪ আগষ্ট ১০ সেপ্টেম্বর ২২ নভেম্বর ৩

এর বাহিরেও জাপানে বিভিন্ন কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান/স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি গোল্ডেন উইক, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এবং ওবোন হলিডেস ইত্যাদি সময় বন্ধ থাকে, কিন্তু এ সময়গুলোতেও দূতাবাস প্রায়ক্ষেত্রে খোলা থাকে। তাই আপনার এ বছরের ছুটির সাথে দূতাবাসের বন্ধের তালিকা মিলিয়ে নোট করে নিন কোন দিনগুলো আপনার বন্ধ আর দূতাবাস খোলা। ঐদিন গুলোতেই আপনি দূতাবাসে আপনার পাসপোর্ট বা কন্সুলার সেবার জন্য চলে আসতে পারেন।

আপনার মোবাইলে যদি ইন্টারনেট থাকে তাহলে আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে সহজেই দূতাবাসে পৌঁছানোর উপায় জানতে পারবেন link

আর আপনি যদি অফলাইনে থাকেন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না জানেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছাতে নাগাতাচো স্টেশন (Nagatacho Station) অথবা কোজিমাচি স্টেশন (Kojimachi Station) এর যেকোনো একটি স্টেশনে নেমে হেঁটে আসতে হবে। নাগাতাচো স্টেশনে নামলে 9A or 9B গেট দিয়ে বের হবেন আর কোজিমাচি স্টেশন দিয়ে বের হলে Exit Gate 1 ব্যবহার করলে আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং জায়রো কার্ডের এক কপি ফটোকপিসহ দূতাবাস বরাবর আপনার জন্ম নিবন্ধনের কপি হারিয়ে গিয়েছে মর্মে একটি সাদা কাগজে আবেদন করুন। সেই সাথে ১০০০ ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন এবং সেই ফুরিকমির অরিজিনাল স্লিপ আপনার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দূতাবাসে সরাসরি জমা দিন বা ডাকযোগে ফিরতি খামসহ পাঠিয়ে দিন। আপনার আবেদন পেলে আমরা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর একটি বিকল্প কপি তৈরি করে আপনাকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিব আপনার ফিরতি খামে অবশ্যই ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ডাকটিকেট সংযুক্ত করুন এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখে দিন।

বর্তমানে বিদেশস্থ কোন বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরিভিত্তিতে স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা চালু নেই। পাসপোর্ট এর আবেদন করার পরে নতুন পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে ২০ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। আপনার পাসপোর্ট-এর আবেদনটি কোন অবস্থায় আছে তা আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেই জানতে পারবেন। কিভাবে জানবেন সে বিষয়ে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে তারই একটি ভিডিও লিঙ্ক নিম্নরূপঃ
https://www.youtube.com/watch?v=hEVLlSKt5G4

যে তারিখ আপনার এনরোলমেন্ট স্লিপে উল্লেখ আছে, সেই তারিখটি মূলত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশস্থ মিশনগুলোতে সাধারণত এর চেয়ে কিছু বেশি সময় লাগে।

আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি জাপানে থাকেন তাহলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট, সিটি অফিস থেকে ইস্যুকৃত জুমিন ইয়ো, স্বামী বা স্ত্রীর পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জাইরো কার্ড এর কপি দিতে হবে। আর আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি জাপানে না থাকে, তাহলে আপনার ম্যারেজ সার্টিফিকেট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে নিয়ে আসতে হবে এবং স্বামী বা স্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ডের কপি জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ম্যারেজ সার্টিফিকেট সত্যায়নের পদ্ধতি হলো, প্রথমে আপনাকে তা নোটারি করতে হবে; অতঃপর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করতে হবে; সবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করাতে হবে।

আপনার বিবাহ জাপানে হয়ে থাকলে সিটি অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিভোর্স সার্টিফিকেট প্রথমে অনুবাদ করে ও পরে নোটারি করে জমা দিতে হবে। আর বাংলাদেশে যদি বিবাহ হয়, সে ক্ষেত্রে ডিভোর্স সার্টিফিকেট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিভোর্স সার্টিফিকেট সত্যায়নের পদ্ধতি হলো, প্রথমে আপনাকে তা নোটারি করতে হবে; অতঃপর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করতে হবে; সবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করাতে হবে।

আবেদনের সময় ছবির সুনির্দিষ্ট কোন সাইজ প্রয়োজন নেই; তবে পাসপোর্ট সাইজের অর্থাৎ ৩০*৪০ mm অথবা ৩৫*৪৫ mm সাইজের ছবি হলে ভালো হয়। ছবির পিছনে স্বাক্ষর অথবা সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।

জি হ্যাঁ। স্টুডেন্ট হিসেবে পাসপোর্ট নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট (Student Enrolment Certificate) জমা দিতে হবে এই স্টুডেন্ট সার্টিফিকেটটি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত হতে হবে। প্রি-স্কুল/কিন্ডারগার্টেন/চাইল্ড কেয়ার কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট আপনার স্টুডেন্ট এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না; এসকল ক্ষেত্রে আপনাকে ১২০০০ ইয়েন দিতে হবে।

আপনি আপনার জমাকৃত পাসপোর্টটি জরুরী প্রয়োজনে ফেরত নিতে চাইলে দূতাবাসে সশরীরে এসে আবেদন করতে পারেন। আর যদি ডাকযোগে ফেরত চাইলে সেক্ষেত্রে আপনি দুইটি ফিরতি খাম সম্বলিত লেটার প্যাক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যেখানে প্রথমটি দিয়ে আমরা আপনার বর্তমান পাসপোর্টটি আপনাকে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করব। তবে মনে রাখবেন, নতুন পাসপোর্ট নেয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে পুরনো পাসপোর্টটি দূতাবাসে পুনরায় জমা দিতে হবে কেননা নতুন পাসপোর্ট দেয়ার সাথে সাথে আপনার পুরনো পাসপোর্টটি বাতিল সিল প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তাই আপনার প্রয়োজন শেষে আপনার পাসপোর্টটি পুনরায় আমাদের নিকট পাঠিয়ে দিন। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন এবং পুরানো দুটো পাসপোর্ট আপনাকে আপনার দেয়া দ্বিতীয় খামে ফেরত পাঠিয়ে দিব।

পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নসমুহ।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ভিতর কম গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য যেমন বর্তমান ঠিকানা ফোন নাম্বার, পেশা, ইমারজেন্সি অ্যাড্রেস ইত্যাদি পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ এবং দূতাবাস তা করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি আপনার নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, জন্ম তারিখ ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চান, সেটা দূতাবাসে করা খুবই জটিল এবং সময় সাপেক্ষ বিষয়। আমাদের পরামর্শ হল, পাসপোর্টে পরিবর্তন করা প্রয়োজন হলে সেটা আপনি দেশ থেকে করা শ্রেয়। আপনার যদি আগামীতে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যখন দেশে যাবেন তখন দেশ থেকে এই কাজটি করিয়ে নিবেন মর্মে এখনই পরিকল্পনা করে নিন। আর একান্তই যদি দূতাবাস থেকে করাতে চান, সেক্ষেত্রে আবেদনের সময় আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আপনার পাসপোর্টে পরিবর্তন আনতে চাইলে অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় তা সঠিক তথ্য প্রদান করুন এবং তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংযুক্ত করুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বলতে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জায়রো কার্ডের কপি সংযুক্ত করুন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে কোন নোটারি পাবলিক থেকে এফিডেভিট করিয়ে তা প্রথমে নোটারাইজড করতে হবে, অতঃপর আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে সর্বশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত করে তার একটি কপি আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, এজাতীয় পরিবর্তন পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন হওয়ায় পাসপোর্ট পেতে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে এক্ষেত্রে আপনার ডেলিভারি স্লিপ এর কপি নিয়ে আপনার কোন প্রতিনিধি ঢাকার আগারগাঁওস্থ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।

পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে যে সকল প্রশ্ন আমরা দূতাবাসকে করে থাকি
পাসপোর্ট রিইস্যু সংক্রান্ত প্রশ্নসমুহ

আপনার বর্তমান পাসপোর্টটি এমআরপি বা ডিজিটাল পাসপোর্ট হলে, নতুন পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আপনাকে রি-ইস্যু অ্যাপ্লিকেশন করতে হবে। প্রথমেই আপনাকে নিচে প্রদত্ত লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে রি-ইস্যু ফরম ডাউনলোড করতে হবেঃhttp://www.passport.gov.bd/Reports/MRP_Information_Alteration_Correction.pdfএই ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করার জন্য নিচের লিঙ্কে প্রদত্ত নমুনা ফরম টি দেখে নিনঃ

ফর্ম পূরণের পরে ফর্মের সাথে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টসমূহ সংযুক্ত করুনঃ
ক) আপনার বর্তমান পাসপোর্ট এর ২ ও ৩ নং পৃষ্ঠার ফটোকপি
খ) আপনার পাসপোর্টে ইনফর্মেশন পেজ বা ২ নং পাতায় উল্লিখিত ব্যক্তিগত নং/পার্সোনাল নাম্বার হিসেবে যে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার রয়েছে সেই ডকুমেন্টের (উভয় পার্শ্ব এক পৃষ্ঠায়) ফটোকপি সংযুক্ত করুন।
গ) জাপানিজ রেসিডেন্স কার্ড বা জাইরু কার্ডের ফটোকপি।
ঘ) আপনি যদি স্টুডেন্ট হন তাহলে বিদ্যালয়/ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়/ইনস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে সদ্য ইস্যুকৃত এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট এর মূলকপি এবং স্টুডেন্ট আইডি এর ফটোকপি (উভয় পার্শ্ব এক পৃষ্ঠায়); স্টুডেন্ট হলে ৪০০০ (4000) ইয়েন ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। স্টুডেন্ট ব্যতীত অন্য সকলের ক্ষেত্রে ১২০০০ (12000) ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। অতঃপর ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমির অরিজিনাল রিসিপ্ট-এর একটি ছবি তুলে আপনার কাছে সংরক্ষনে রাখুন।
ঙ) আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস, পোস্ট কোডসহ পুরো ঠিকানা, বাসা কিংবা কর্মক্ষেত্রের টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি একটি সাদা কাগজে প্রিন্ট আকারে অথবা পরিষ্কার অক্ষরে লিখে জমা দিন। এই কাগজের নিচে আপনার স্বাক্ষর প্রদান করুন।
চ) আপনার মূল পাসপোর্টঃ মনে রাখবেন, যারা ডাকযোগে নতুন পাসপোর্ট পেতে চান তাদের পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট-এর জন্য মূল পাসপোর্ট জমাদান বাধ্যতামূলক; এবং আপনার এই পাসপোর্টটি নতুন পাসপোর্ট আসা পর্যন্ত দূতাবাসের কাছে জমা থাকবে। নতুন পাসপোর্ট আসার পরে আপনার পুরাতন পাসপোর্টটি যথাযথ নিয়মে বাতিল সিল প্রদান পূর্বক নতুন এবং পুরাতন দুটো পাসপোর্টই একসাথে ফেরত পাঠানো হবে।
** যারা দূতাবাসে এসে তাদের নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন, তাদের পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা রাখা হবে না। নতুন পাসপোর্ট যখন নিতে আসবেন, তখন পুরাতন পাসপোর্ট এবং ডেলিভারি স্লিপ সঙ্গে নিয়ে আসবেন। আমরা আপনার নতুন পাসপোর্টটি ইস্যু করব এবং পুরাতন পাসপোর্টটি বাতিল সিল প্রদান করে একসাথে আপনাকে দেয়া হবে।
** আপনার বর্তমান পাসপোর্টটি যদি কোন কারণে হারিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে রিপোর্টের তারিখ, নম্বর ও পুলিশ স্টেশনের নামসহ মূল পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করুন। বাধ্যতামূলক ব্যক্তিগত ইন্টারভিউ-এর জন্য দূতাবাসে সরাসরি আসুন এবং হারানোর যাবতীয় বৃত্তান্ত লিখে স্বাক্ষরসহ জমা দিন।
সকল কাগজপত্র অবশ্যই A4 সাইজ কাগজে জমা দিন। কোন দলিল (যেমন, বিয়ের সনদ বা হলফনামা ইত্যাদি) যদি আকারের বড় হয় সেক্ষেত্রে percentage কমিয়ে A4 সাইজ কাগজে ফটোকপি করে জমা দিন। সকল কাগজপত্র পরিষ্কার এবং স্পষ্ট হতে হবে।

ডাকযোগে আপনার আবেদন দূতাবাসে পাঠাতে চাইলে, আবেদন পত্রের সাথে একটি ফিরতি খাম লেটার প্যাক সংযুক্ত করতে হবে যা আপনি আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিস অথবা ফ্যামিলি মার্ট বা সেভেন এলেভেন থেকে ক্রয় করতে পারবেন। নমুনা খামের একটি ছবি নিচের লিংকে সংযুক্ত করা হলোঃ

এটি একটি লাল বর্ডার যুক্ত এলপি লেটার প্যাক যার মুল্য ৫২০ ইয়েন। উক্ত খামের উপর আপনার পোস্ট কোড সহ পূর্ণ ঠিকানা, নাম ও ফোন নাম্বার লিখে নিন। লেটার প্যাকটি পাঠানোর পূর্বে লেটার প্যাকের উপরের পৃষ্ঠার একটি ছবি তুলে আপনার কাছে সংরক্ষনে রাখুন এবং এই লেটার প্যাক এর উপরে একটি ট্রাকিং নাম্বার দেয়া আছে যা দিয়ে আপনি সহজেই জানতে পারবেন আপনার লেটার প্যাকটি দূতাবাসে পৌঁছেছে কিনা আপনার প্রেরিত লেটার প্যাকটি বর্তমানে কোথায় আছে তা ট্র্যাকিং করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ
https://www.post.japanpost.jp/index_en.html
ডাকযোগে প্রেরণের ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট সমূহের কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি হলে দূতাবাস দায়ী থাকবেনা মর্মে আপনার স্বাক্ষর সহ একটি সাদা কাগজে আবেদন সংযুক্ত করুন। মনে রাখবেন, একটি লেটার প্যাক এ সর্বোচ্চ ২ জনের পাসপোর্ট পাঠানো যায়; তাই আবেদনকারীর সংখ্যা দুই জনের বেশি হলে একাধিক (প্রয়োজনমতো) লেটার প্যাক সংযুক্ত করুন।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আশেপাশেই ফ্যামিলি মার্ট, সেভেন এলেভেন বা পোস্ট অফিস, জেপি ব্যাংক রয়েছে যেখান থেকে সহজেই আপনি টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। প্রাপক- জাপান পোস্ট ব্যাংক (JP Bank) অ্যাকাউন্ট নাম্বার ১০০৮০-৭৩৭৯৬৭৫১ (10080- 73796751)।
পোস্ট অফিসে সরাসরি ফি প্রদান করলে দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো লিখুন আর ব্যাংকের এটিএম কার্ড-এর মাধ্যমে এটিএম মেশিনে ফি প্রদান করতে চাইলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফি এর পরিমাণ ঠিকমতো টাইপ করুন এবং সবশেষ কনফার্ম বাটনে চাপ দেয়ার আগে জাপানিজ ভাষায় দূতাবাসের নামটি পরীক্ষা করে নিন। অসতর্ক হলে অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং অর্থের পরিমাণ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। উল্লেখ্য, দূতাবাস একাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ করলে ৭ দিনের মধ্যে অবশ্যই দূতাবাসকে জানাতে হবে। মনে রাখবেন, ভুলক্রমে প্রেরণকৃত অর্থ ফেরত প্রদান সরকারি আইন অনুযায়ী অনেক সময় সাপেক্ষ এবং জটিল বিষয়। উল্লিখিত অর্থ একাউন্টে জমা দানের পর টাকা জমা দেয়ার ডিপোজিট স্লিপ এর অরিজিনাল কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন এবং একটি ফটোকপি আপনি নিজের কাছে রেখে দিন। একই সাথে, আপনার পাসবুক আপডেট বা হালনাগাদ করুন এবং দূতাবাসে স্বশরীরে আসার সময় পাস বইটিও সঙ্গে নিয়ে আসুন।
আপনি যদি স্টুডেন্ট হন (বিদ্যালয়/ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়/ইনিস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে সদ্য ইস্যুকৃত এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট এর মূলকপি এবং স্টুডেন্ট আইডি এর ফটোকপি জমাদান সাপেক্ষে) ৪০০০ (4000) ইয়েন ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। স্টুডেন্ট ব্যতীত সকলের ক্ষেত্রে ১২০০০ (12000) ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন। বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে এবং জাপানে সাময়িক সময়ের জন্য পিএইচডি/মাস্টার্স/উচ্চশিক্ষা/প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য আসলে পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ১২০০০ ইয়েন প্রদান করতে হবে। অফিশিয়াল পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে কোন ফি প্রদান এর প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে আপনার ভ্যালিড জিও কপি সংযুক্ত করুন।

রি-ইস্যু আবেদনের সময় ছবির সুনির্দিষ্ট কোন সাইজ প্রয়োজন নেই; তবে পাসপোর্ট সাইজের অর্থাৎ ৩০*৪০ mm অথবা ৩৫*৪৫ mm সাইজের ছবি হলে ভালো হয়। ছবির পিছনে স্বাক্ষর অথবা সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।

বর্তমান পাসপোর্টে যে ব্যক্তিগত নং বা পার্সোনাল নাম্বার দেয়া আছে তার স্বপক্ষের ডকুমেন্টটি আমাদের প্রয়োজন, তাই অনুগ্রহ করে দেশে যোগাযোগ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পরিচয় পত্রের কপি বা অনুলিপি সংগ্রহ করুন। সেই ডকুমেন্টটি যদি বাংলাদেশ থেকে ইস্যু করে থাকেন সে ক্ষেত্রে দূতাবাসের পক্ষে কিছু করার নেই। এসকল ক্ষেত্রে দেশে আপনার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দপ্তরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আর আপনার ব্যক্তিগত নং হিসেবে ব্যবহৃত নম্বরটি যদি জাপান দূতাবাস কর্তৃক ইস্যুকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে দূতাবাসে যোগাযোগ করে নতুন করে তা সংগ্রহ করা যাবে। সেক্ষেত্রে, আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং জায়রো কার্ডের এক কপি ফটোকপিসহ দূতাবাস বরাবর আপনার জন্ম নিবন্ধনের কপি হারিয়ে গিয়েছে মর্মে একটি সাদা কাগজে আবেদন করুন। সেই সাথে ১০০০ ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন এবং সেই ফুরিকমির অরিজিনাল স্লিপ আপনার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দূতাবাসে সরাসরি জমা দিন বা ডাকযোগে ফিরতি খামসহ পাঠিয়ে দিন। আপনার আবেদন পেলে আমরা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর একটি বিকল্প কপি তৈরি করে আপনাকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিব। সেক্ষেত্রে, আপনার ফিরতি খামে অবশ্যই ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ডাকটিকেট সংযুক্ত করুন এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা লিখে দিন।

জি হ্যাঁ। স্টুডেন্ট হিসেবে পাসপোর্ট নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট (Student Enrolment Certificate) জমা দিতে হবে এই স্টুডেন্ট সার্টিফিকেটটি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত হতে হবে। প্রি-স্কুল/কিন্ডারগার্টেন/চাইল্ড কেয়ার কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট আপনার স্টুডেন্ট এনরলমেন্ট সার্টিফিকেট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না; এসকল ক্ষেত্রে আপনাকে ১২০০০ ইয়েন দিতে হবে।

আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি জাপানে থাকেন তাহলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট, সিটি অফিস থেকে ইস্যুকৃত জুমিন ইয়ো, স্বামী বা স্ত্রীর পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জাইরো কার্ড এর কপি দিতে হবে। আর আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি জাপানে না থাকে, তাহলে আপনার ম্যারেজ সার্টিফিকেট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে নিয়ে আসতে হবে এবং স্বামী বা স্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র/ভোটার আইডি কার্ডের কপি জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ম্যারেজ সার্টিফিকেট সত্যায়নের পদ্ধতি হলো, প্রথমে আপনাকে তা নোটারি করতে হবে; অতঃপর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করতে হবে; সবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করাতে হবে।

আপনার বিবাহ জাপানে হয়ে থাকলে সিটি অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিভোর্স সার্টিফিকেট প্রথমে অনুবাদ করে ও পরে নোটারি করে জমা দিতে হবে। আর বাংলাদেশে যদি বিবাহ হয়, সে ক্ষেত্রে ডিভোর্স সার্টিফিকেট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিভোর্স সার্টিফিকেট সত্যায়নের পদ্ধতি হলো, প্রথমে আপনাকে তা নোটারি করতে হবে; অতঃপর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করতে হবে; সবশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন করাতে হবে।

বর্তমানে বিদেশস্থ কোন বাংলাদেশ দূতাবাসে জরুরিভিত্তিতে স্বল্প সময়ে পাসপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা চালু নেই। পাসপোর্ট এর আবেদন করার পরে নতুন পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে ২০ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। আপনার পাসপোর্ট-এর আবেদনটি কোন অবস্থায় আছে তা আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেই জানতে পারবেন। কিভাবে জানবেন সে বিষয়ে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও রয়েছে তারই একটি ভিডিও লিঙ্ক নিম্নরূপঃ
https://www.youtube.com/watch?v=hEVLlSKt5G4
যে তারিখ আপনার এনরোলমেন্ট স্লিপে উল্লেখ আছে, সেই তারিখটি মূলত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেহেতু পাসপোর্টগুলো বাংলাদেশ হতে প্রিন্ট হয়ে আসে তাই বিদেশস্থ মিশনগুলোতে সাধারণত এর চেয়ে কিছু বেশি সময় লাগে।

বাচ্চার যদি প্রথম এমআরপি পাসপোর্ট করতে হয় এবং বাচ্চার বয়স যদি পাঁচ বছরের কম হয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চাকে সাথে আনার প্রয়োজন নেই। বাচ্চাদের নতুন পাসপোর্ট করার নিয়মটি নতুন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে করণীয় অধ্যায়ে বর্ণিত আছে। আর বাচ্চার বয়স যদি ৫ বছরের অধিক হয় সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। তাই বাচ্চার বয়স পূর্ণ পাঁচ বছর বা তার অধিক হলে তাকে অবশ্যই দূতাবাসে আসতে হবে।

তখন আপনার বাচ্চার বয়স পাঁচ বছরের কম ছিল, তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক ছিল না। এখন পাঁচ বছরের বেশি হওয়াতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া অত্যাবশ্যকীয়।

আপনার পাসপোর্টের ছবির সাথে বর্তমান চেহারার পার্থক্য যদি বেশি হয়, সেক্ষেত্রে দূতাবাসে এসে ছবি পরিবর্তন করা উচিত। মনে রাখবেন, পূর্ণ পাঁচ বছর বা তার অধিক থেকে বিশ বছর বয়স্কদের ক্ষেত্রে দূতাবাসে এসে ছবি তোলা বাধ্যতামূলক।

আপনি আপনার জমাকৃত পাসপোর্টটি জরুরী প্রয়োজনে ফেরত নিতে চাইলে দূতাবাসে সশরীরে এসে আবেদন করতে পারেন। আর যদি ডাকযোগে ফেরত চান সেক্ষেত্রে আপনি দুইটি ফিরতি খাম সম্বলিত লেটার প্যাক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যেখানে প্রথমটি দিয়ে আমরা আপনার বর্তমান পাসপোর্টটি আপনাকে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করব। তবে মনে রাখবেন, নতুন পাসপোর্ট নেয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে পুরনো পাসপোর্টটি দূতাবাসে পুনরায় জমা দিতে হবে কেননা নতুন পাসপোর্ট দেয়ার সাথে সাথে আপনার পুরনো পাসপোর্টটি বাতিল সিল প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তাই আপনার প্রয়োজন শেষে আপনার পাসপোর্টটি পুনরায় আমাদের নিকট পাঠিয়ে দিন। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন এবং পুরানো দুটো পাসপোর্ট আপনাকে আপনার দেয়া দ্বিতীয় খামে ফেরত পাঠিয়ে দিব।

যেকোন ডকুমেন্ট আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইমেইলে যোগাযোগ করা সবচেয়ে উত্তম, কেননা এতে আপনার ডেলিভারি স্লিপ বা অন্যান্য ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে। আমরা অনেক সময়ই আবেদনকারীর কাছ থেকে জানতে পারি যে, তিনি তার ডেলিভারি স্লিপ-এর কাগজটি হারিয়ে ফেলেছেন বা খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সকল ক্ষেত্রে তার পাসপোর্ট এর আবেদন খুঁজে পেতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ হচ্ছে, আপনি যদি ইমেইল ব্যবহার করতে নাও পারেন আপনার যে বন্ধু বা নিকট আত্মীয় ব্যবহার করে তার ইমেইল এড্রেসটি আমাদের দিন; আর একান্তই অপারগ হলে আপনি ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ইয়েনের ডাকটিকিটসহ একটি ফেরত খাম আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন। উক্ত খামে আমরা আপনার পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ডেলিভারি স্লিপ আপনার কাছে পাঠিয়ে দিব যা আপনি স্বাক্ষর করে আমাদের কাছে পুনরায় পাঠিয়ে দিলে আমরা আপনার পাসপোর্ট-এর এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন করে ঢাকায় প্রিন্টিং এর জন্য পাঠিয়ে দিব। ফেরত দেয়ার পূর্বে অবশ্যই ডেলিভারি স্লিপের ছবি তুলে আপনার সংরক্ষনে রাখুন। দূতাবাসে ইমেইল পাঠানোর ঠিকানাঃ consular.bdembjp@mofa.gov.bd

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট এবং কনস্যুলার সেবা সহজ করার লক্ষ্যে প্রতিমাসের প্রথম রবিবার বাংলাদেশ দূতাবাস সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসের প্রথম রবিবারে একসাথে অনেক মানুষের ভিড় হয়। সে ক্ষেত্রে সেবা প্রদান দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। তাই আরো একটি বিকল্প পন্থার কথা আমরা আপনাকে জানাতে চাইঃ
লক্ষ্য করে দেখুন, বাংলাদেশ দূতাবাসের বাৎসরিক ছুটির দিনগুলো আর আপনার/জাপানের ছুটির দিনগুলো সব ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথমেই জেনে নিন ২০২০ সালে দূতাবাস কোন কোন দিন বন্ধ থাকবেঃ

এই তালিকাটি থেকে জানা যাচ্ছে যে, অনেকগুলো দিন আছে যেদিন জাপানে পাবলিক হলিডে কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস খোলা। তাই আপনার দূতাবাসে আসার জন্য এই দিনগুলো খুবই সুবিধাজনক। যেমন, ২০২০ সালের-

জানুয়ারি ১৩ মার্চ ২০ মে ৪ জুলাই ২৩
জুলাই ২৪ আগষ্ট ১০ সেপ্টেম্বর ২২ নভেম্বর ৩

এর বাহিরেও জাপানে বিভিন্ন কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান/স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি গোল্ডেন উইক, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এবং ওবোন হলিডেস ইত্যাদি সময় বন্ধ থাকে, কিন্তু এ সময়গুলোতেও দূতাবাস প্রায়ক্ষেত্রে খোলা থাকে। তাই আপনার এ বছরের ছুটির সাথে দূতাবাসের বন্ধের তালিকা মিলিয়ে নোট করে নিন কোন দিনগুলো আপনার বন্ধ আর দূতাবাস খোলা। ঐদিন গুলোতেই আপনি দূতাবাসে আপনার পাসপোর্ট বা কন্সুলার সেবার জন্য চলে আসতে পারেন।

আপনার মোবাইলে যদি ইন্টারনেট থাকে তাহলে আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে সহজেই দূতাবাসে পৌঁছানোর উপায় জানতে পারবেন
https://goo.gl/maps/KGnqHGD2uFofng2N6

আর আপনি যদি অফলাইনে থাকেন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না জানেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছাতে নাগাতাচো স্টেশন (Nagatacho Station) অথবা কোজিমাচি স্টেশন (Kojimachi Station) এর যেকোনো একটি স্টেশনে নেমে হেঁটে আসতে হবে। নাগাতাচো স্টেশনে নামলে 9A or 9B গেট দিয়ে বের হবেন আর কোজিমাচি স্টেশন দিয়ে বের হলে Exit Gate 1 ব্যবহার করলে আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।

আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং জায়রো কার্ডের এক কপি ফটোকপিসহ দূতাবাস বরাবর আপনার জন্ম নিবন্ধনের কপি হারিয়ে গিয়েছে মর্মে একটি সাদা কাগজে আবেদন করুন। সেই সাথে ১০০০ ইয়েন ব্যাংক ট্রান্সফার বা ফুরিকমি করুন এবং সেই ফুরিকমির অরিজিনাল স্লিপ আপনার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দূতাবাসে সরাসরি জমা দিন বা ডাকযোগে ফিরতি খামসহ পাঠিয়ে দিন। আপনার আবেদন পেলে আমরা আপনার জন্ম নিবন্ধন এর একটি বিকল্প কপি তৈরি করে আপনাকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিব আপনার ফিরতি খামে অবশ্যই ৮৪ ইয়েন বা তদুর্ধ্ব ডাকটিকেট সংযুক্ত করুন এবং আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখে দিন।

দুটো আবেদন আপনি ডাকযোগে একসাথে পাঠানোর সুযোগ থাকলেও আমাদের পরামর্শ হল দুটো কাজ আলাদা আলাদা করা। কেননা এতে ভুল-ত্রুটি হয় না। দুটো আবেদন একসাথে পাঠালে প্রথমে আমাদেরকে জন্ম নিবন্ধন করতে হয়। তারপরে পাসপোর্ট এর প্রসেস করতে হয়। এ ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটে ভুল ত্রুটি হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই আপনি প্রথমে জন্ম নিবন্ধন এর কাজ সম্পন্ন করুন তারপরে পাসপোর্টের আবেদন আলাদাভাবে পাঠান। একবার যদি পাসপোর্ট এর তথ্য ভুল হয়ে যায় সেটি পরবর্তীতে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে আপনাকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

পাসপোর্ট রি-ইস্যু আবেদন করার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নেই। আপনি যখন ইচ্ছা সেটা করতে পারেন; আপনার পাসপোর্ট-এর মেয়াদ থাকুক আর নাই থাকুক। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো, আপনি পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার জন্য এমন সময় বেছে নিন, যেসময় পাসপোর্টটি আপনার কোন কাজে লাগবে না বা আপনার দেশে যাবার কোন পরিকল্পনা নেই। আমরা অনেক সময়ই আবেদন গ্রহণের সময় শুনতে শুনতে পাই যে, আবেদনকারীর দেশে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বা টিকিট কেটে ফেলেছেন, তাই পাসপোর্টটি জরুরিভাবে দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ পাঁচ বছর- এই ৫ বছরের ভেতরে যে কোন সময় আপনি পাসপোর্টের আবেদন করতে করতে পারেন। আবার ৫ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও যেকোনো সময় সেটা করতে পারবেন। অনুগ্রহ করে আপনি এমন কোন সময় বেছে নিবেন না যখন পাসপোর্টটি আপনার প্রয়োজন হবে। সহজ কথায়, দূতাবাসে পাসপোর্টের আবেদন করতে আসলে, অন্তত দেড় মাস সময় পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা রাখার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে আপনি আবেদনের সময় নির্বাচন করুন।

পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নসমুহ

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ভিতর কম গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য যেমন বর্তমান ঠিকানা ফোন নাম্বার, পেশা, ইমারজেন্সি অ্যাড্রেস ইত্যাদি পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ এবং দূতাবাস তা করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি আপনার নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, জন্ম তারিখ ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চান, সেটা দূতাবাসে করা খুবই জটিল এবং সময় সাপেক্ষ বিষয়। আমাদের পরামর্শ হল, পাসপোর্টে পরিবর্তন করা প্রয়োজন হলে সেটা আপনি দেশ থেকে করা শ্রেয়। আপনার যদি আগামীতে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যখন দেশে যাবেন তখন দেশ থেকে এই কাজটি করিয়ে নিবেন মর্মে এখনই পরিকল্পনা করে নিন। আর একান্তই যদি দূতাবাস থেকে করাতে চান, সেক্ষেত্রে আবেদনের সময় আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আপনার পাসপোর্টের কোন তথ্যে পরিবর্তন আনতে চাইলে রি-ইস্যু ফর্মে তা উল্লেখ করুন এবং তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংযুক্ত করুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বলতে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জায়রো কার্ডের কপি সংযুক্ত করুন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে কোন নোটারি পাবলিক থেকে এফিডেভিট করিয়ে তা প্রথমে নোটারাইজড করতে হবে, অতঃপর আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়ন করে সর্বশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত করে তার একটি কপি আপনার আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, এ জাতীয় পরিবর্তন পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন হওয়ায় পাসপোর্ট পেতে সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে এক্ষেত্রে আপনার ডেলিভারি স্লিপ এর কপি নিয়ে আপনার কোন প্রতিনিধি ঢাকার আগারগাঁওস্থ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টে কোন তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে এফিডেভিট জমা দেয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বিধায় বাংলাদেশ থেকে করিয়ে আনতে হয়।

প্রয়োজন নেই। ৫ থেকে ২০ বছর বয়সী বাচ্চাদের পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে শুধু আবেদনকারীর এক কপি ছবি দিলেই যথেষ্ট।